Recents in Beach

‘রাজাকার’ বাহিনীদের গেরিলা প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য MNF-দের আর্জি


“ও আমার আওজর তারুম ঝাড় --- এ জিংহানীত তর নোনেয়ে ম-বুগোত বাজিযার”

১৯৬৯ সাল, পার্বত্য চট্টগ্রামে ---- ‘রাজাকার (Rajakar)’--- নামে রাজার নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলার জন্য চাকমা রাজা Mr. Tridip Roy-কে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠিরা নির্দেশ দেওয়ার পর নোটিফেকেশন জারী হলে অনেক জায়গা থেকে --- ‘রাজাকার (Rajakar)’ --- বাহিনীতে যোগ দেন। তাদের মধ্যে অনেকের মতন পানছড়ি উপজিলার মির্জাবিল গ্রামের মিঃ শরৎ দাস চাকমা ঔরফে পাঠান ভান্তেও (Mr. Sharath Das Chakma alias Pathan  Bhante, Mirzabil, Panchari, Khagrachari) যোগ দিয়েছিলেন।
অবশ্যই, খাগড়়াছড়িতে ‘দু-দিন যুদ্ধ’ করার পর মুক্তি বাহিনীদের কাছে আত্মসমর্পন করেন এবং তার জেল হয় ---- শেখ মুজিবুর রহমান (Skeikh Mujibur Rahman)-এর সাধারণ ক্ষমা (General Amnesty) ঘোষণাতে মিঃ শরৎ দাস চাকমা (Mr. Sharath Das Chakma) জেল থেকে মুক্তি পেয়ে কয়েক বছরের জন্য ভান্তে হন --- তখন থেকে ‘পাঠান ভান্তে’ (জিনলংকার ভিক্ষু-Jinalankar Bhikkhu) নামে পরিচিতি লাভ করেন।

তার ( মিঃ শরৎ দাস চাকমা-Sharath Das Chakma) বর্ণনার মতে, চট্টগ্রাম সেনানীবাসে –-রাজাকার (Rajakar)--- বাহিনীদের গেরিলা প্রশিক্ষণ (guerrilla training)  প্রদানের জন্য পূর্বোত্তর ভারতের মিজোরামের বিদ্রোহী MNF (Mizo National Front)-রা পাকিস্তান সেনাবাহিনীদের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু MNF-দের দাবী প্রত্যাখান করে রাজাকার বাহিনীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীরা। আর অবশ্যই --- ‘রাজাকার (Rajakar)’--- বাহিনীদেরকে militia বাহিনী নামেও ডাকা হত।

Ex. District register Mr. Deva Prasad Dewan-এর বাবা Kiran Dewan (বর্তমানে নেই), ১৯৩৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (Kolkata University) অধীন রাঙ্গামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় (Rangamati Govt. High School) থেকে মেট্রিকুলেশন পাস করে চাকমা রাজার অফিসের সাথে যুক্ত হন। তখন থেকে দীঘিনালা Boalkhali Dasabal Raj Vihar-এর পাশে অবস্থিত রাজার Revenue office-এ দীর্ঘ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ভাগ্যক্রমে তার (Kiran Dewan) সাথে ৪-৫টি বছর মিলে কথা বলার বা জানার সুযোগ পেয়েছি। --- সেই সময়ে তার কাছ থেকেও কাপ্তাই বাঁধের প্রসঙ্গ এবং ক্ষতিপুরণ, ‘রাজাকার (Rajakar)’ বাহিনী ইত্যাদি ইতিহাস জানার অনেক সুযোগ পেয়েছি।

তাছাড়াও তখনকার কুমিল্লা এলাকার ব্রাক্ষ্মণবাড়ীর নিবাসী নাম ভুলে যাওয়া রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা অফিসার (Rangamati district education officer), মিজোরামের প্রাক্তন MNF সদস্যদের নিয়ে গঠিত Zo-Reunification নামে এক NGO কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে কাপ্তাই বাঁধের প্রসঙ্গ এবং ক্ষতিপুরণ, ‘রাজাকার (Rajakar)’ বাহিনী-এর গঠন নিয়ে আলোচনার সুযোগ পেয়েছি।

তাছাড়াও --- “ও আমার আওজর তারুম ঝাড় --- এ জিংহানীত তর নোনেয়ে ম-বুগোত বাজিযার” -- নামে গানটির অনন্য লেখক, কবি, সাহিত্যিক এবং মিজোরাম বিধান সভার Ex. M L A (Member of Legislative Assembly of Mizram)  এবং মিজোরাম-এর ডেমাগ্রী (Demagri) এলাকার নূনছড়ি (Nunsury) গ্রামের বাসিন্দা Pandit S P Dewan (অবশ্যই দু-এক রছর আগে স্বর্গীয় হয়েছেন) পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে একজন ইতিহাসের সাক্ষী। তার সাথে, বিভিন্ন সময়ে দেখা করে অনেক তথ্য জেনেছি। ত্রিপুরা রাজ্যের  বিধান সভার Ex. M L A (Member of Legislative Assembly of Tripura) মিঃ সুশীল কুমার চাকমা (Sushil Kumar Chakma)-এর আপন কাকা স্বর্গীয় পরেশ্বর মুণি চাকমা (Lt. Pareshwar Muni Chakma)ও কম পন্ডিত ছিলেন না। তার নিবাস পেঁচারতল (Pencharthal) এলাকার ধনীছড়া (Dhanichara) গ্রামে গিয়ে অনেক ইতিহাস জেনেছি।

অবশ্যই প্রয়াতঃ পিতৃদেবও কম ইতিহাসের তথ্য শিখিয়ে যাননি। তার বন্ধু মহলের মধ্যে বোয়ালখালী এবং দীঘিনালা থানা বাজারের বাজার চৌধুরী প্রয়াতঃ প্রাক্তন চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন চাকমা (Gyana Ranjan Ranjan Chakma) এবং কবাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বর্গীয় অমৃত রঞ্জন চাকমা ঔরফে বলঅ (Amrita Moy Chakma-alias Bala) ছিলেন।

মূলতঃ পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস, কাপ্তাই বাঁধ, --রাজাকার-- বাহিনী--এর বিষয়ে সঠিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে আমি সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম, Mizoram, Assam, Tripura, Arunachal, Nagaland, Manipur, Meghalaya,  দক্ষিণ এশিয়া (South Asia) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার Burma (Myanmar), Laos, Cambodia, Vietnam and Thailand পরিভ্রমণ করেছি। উক্ত ভ্রমণ কাহিনী জীবনে যা শুনেছি এবং দেখেছি আর বই পড়ে জেনেছি তার আলোকে কিছু কিছু প্রকাশ করতেছি মাত্র। 

আরো উল্লেখ্য যে, যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস লিপিবদ্ধ নয় সেহেতু আমি প্রতিটি জায়গায় প্রাচীন বয়স্ক মানুষদের খুঁজে খুঁজে ইতিহাস খোঁজার চেষ্টা করেছি। 

সুতরাং চাকমা রাজা Mr. Tridip Roy কর্তৃক ---- ‘রাজাকার (Rajakar)’ --- নামে প্রতিরক্ষা বাহিনী--- গঠনের গুরুত্ব দিলে পার্বত্য চট্টগ্রাম সামরিক দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটা আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হত এবং জুম্মরা আইনে সুশৃংখলিত হয়ে সুখি ও সমৃদ্ধি হতে পারতেন।

লেখকঃ Monogeet Jumma - মোনোগীত জুম্ম'র ফেসবুক থেকে নেয়া

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ