Recents in Beach

কিয়াং ঘরে অবস্থানরত জেএসএস (সন্তু লারমা গ্রুপ) কর্তৃক সেনা টহলের উপর গুলিবর্ষণঃ ০১ জন সেনাসদস্য আহত



কাপ্তাই, রাজস্থলী থেকে নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিতভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অনুরুপ টহলের অংশ হিসেবে আজ সকাল ৯ ঘটিকায় রাংগামাটি জেলার কাপ্তাই সেনা জোনের রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প থেকে একটি টহল দল পোয়াইতুমুখ নামক স্থানে গমণ করে। আনুমানিক সকাল ১০ ঘটিকায় টহল দল ঐ স্থানে পৌঁছানোর পর বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাসনালয় “কিয়াং ঘরে” লুকিয়ে থাকা সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস (মূল দল)’এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে সেনা টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। জবাবে সেনা টহল দলও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। উক্ত গোলাগুলিতে একজন সেনাসদস্য আহত হয়আহত সেনাসদস্যকে তৎক্ষণাৎ চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে স্থানীয় সাধারণ জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সেনা টহল দল সতর্কতার সাথে পাল্টা গুলি ছুঁড়ছে। এ ঘটনায় হামলাকারী জেএসএস (সন্তু লারমা গ্রুপ)’র ০৩ জন সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা যায়।  
 
ধর্মীয় উপাসনালয়কে অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রায়শঃই সেখানে আত্নগোপন, অস্ত্র ভান্ডার গড়ে তোলাসহ নানান ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে বলে স্থানীয় জনসাধারণ এই প্রতিবেদককে জানায়। 

উল্লেখ্য যে, গত ১৮ মার্চ ২০১৯ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রাংগামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাচন শেষে ফেরার পথে নিরাপত্তাবাহিনী ও সরকারী কর্মকর্তাদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। উক্ত হামলায় ০৭ জন নিরীহ নিরাপত্তাবাহিনী ও সরকারী কর্মকর্তার প্রাণহানির ঘটে। এছাড়াও, সম্প্রতি বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলাতে জেএসএস (সন্তু লারমা গ্রুপ) বেশ ক’জন আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে। উক্ত ঘটনাবলী এবং রাজস্থলীতে আজ সেনা টহলের উপর সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস (মূল দল)’র হামলার ঘটনায় এটা স্পষ্টতঃ প্রমাণিত যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরকারী সন্তু লারমার দল জেএসএস শান্তিচুক্তি অনুযায়ী সকল অস্ত্র জমা না করে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যা প্রকারান্তে শান্তিচুক্তির বরখেলাপ। আরো উল্লেখ্য যে, শান্তিচুক্তির পর চুক্তি অনুযায়ী বেশ কিছু সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, একটি বিশাল এলাকায় নিরাপত্তা বলয়ের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলসমূহ সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নানান ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন পাহাড়ি ও বাংগালী নিরাপত্তার খাতিরে আরো বেশি করে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবী জানায়। তারা জানায় যে, ইউপিডিএফ এবং জেএসএস নামধারী স্থানীয় পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের নামে তাদের কাছ থেকে জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করছে। এমনকি ঐ সব সন্ত্রাসীদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রেহাই পাচ্ছে না তাদের এলাকার নারীরাও।    

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ