Recents in Beach

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাংগালী কৃষকরা বৈষম্যের শিকার


পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীরা যুগ যুগ ধরে সর্বক্ষেত্রে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। সম্প্রতি, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ কর্তৃক জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি সরঞ্জামাদি বিতরনের খতিয়ান থেকে বিষয়টি আবারো প্রতীয়মান হয়েছে।

সর্বশেষ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউএনডিপির আওতায় খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকদের মাঝে সেচ পাম্প ও পাওয়ার টিলার বিতরণের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। সরঞ্জামাদি বিতরণ করার ক্ষেত্রে বাঙ্গালীদের কে নামমাত্র অংশীদার করা হয়েছে -- দাবী বাংগালী কৃষকদের।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাঙালিরা বলছেন যে, কৃষি সরঞ্জামাদি বিতরনের ক্ষেত্রে এই বৈষম্যের দায়ভার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও কোন ভাবে এড়াতে পারে না। তাছাড়া একজন স্থানীয় প্রতিনিধি অবশ্যই সকল ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন কিন্তু খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব কংজুরি চৌধুরী বেশ কয়েকটি উপজেলায় নিজ হাতে সরঞ্জাম বিতরণ করলেও তিনি পাহাড়ি-বাঙালি বৈষম্যের বিষয়টি নিয়ে কোনো আওয়াজ করেননি। সুতরাং এরকম একজন সাম্প্রদায়িক মানসিকতার চেয়ারম্যান দিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ চলতে পারে।

আসুন দেখে নেয়া যাক খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি সরঞ্জাম বিতরনের খতিয়ানঃঃ
 
পানছড়ি- পাহাড়ী- ২৬, বাঙ্গালী - ০৫

খাগড়াছড়ি সদর- পাহাড়ী- ৩০- বাঙ্গালী - ০৪

মাটিরাঙ্গা- পাহাড়ী - ১২- বাঙ্গালী ২৫

মহালছড়ি- পাহাড়ী - ২২- বাঙ্গালী-০২

মানিকছড়ি পাহাড়ী- ২২ বাঙ্গালী- ০২

দীঘিনালা - পাহাড়ী-১৬, বাঙ্গালী- ০৪

গুইমারা- পাহাড়ী-২৫, বাঙ্গালী- ০১

অর্থাৎ, সব মিলিয়ে উপজাতি ১৫৩ জন পাহাড়িকে কৃষি সরঞ্জাম দিলেও বিপরীতে মাত্র ৪৩ জন বাংগালীকে তা দেয়া হয়েছে। অথচ, জনসংখ্যার হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংগালিরা অর্ধেকজনগোষ্ঠী এবং তারা বেশ অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ