Recents in Beach

সাম্প্রদায়িক সাংসদ বাসন্তী চাকমার অমানবিকতা



টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি জেলাসদরসহ সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রাম যখন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ যখন বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে, ঠিক তখনই পার্বত্য চট্টগ্রামের বিতর্কিত মহিলা সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমা কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে কয়েক লক্ষ টাকা অনুদান হিসেবে নিয়ে এসে তার ন্যায্য প্রাপ্যদার বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ না করে বৈশাখী পূর্ণিমা উপলক্ষে খাগড়াছড়ির ৫৬ টি বৌদ্ধ বিহারে বিতরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ।

আজ দুপুর ১:৩০ ঘটিকায় সংগঠনটির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় নেতৃবৃন্দ এ প্রতিবাদ জানান। জেলা সভাপতি মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আসাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি সুমন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাদত হোসেন কায়েশ, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ শামীম হোসেন, মোহাম্মদ সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম রনি।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন বাসন্তী চাকমা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে বন্যার্তদের জন্য অর্থ এনে অসহায় বন্যার্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে, মানবতার ডাকে সাড়া না দিয়ে গতকাল ১৫ই জুলাই বৈশাখী পূর্ণিমা উপলক্ষে খাগড়াছড়ি সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ৫৬টি বৌদ্ধবিহারে ৭ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন। তারা বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় অর্থ ব্যয় করলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু বন্যার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ চলাকালে একজন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য কিভাবে ত্রাণ তহবিলের অর্থ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যয় করেন?

নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন, সেখানে উগ্র সাম্প্রদায়িক সাংসদ ও শান্তিবাহিনীর বোন বাসন্তী চাকমা আবারো নিজের চরিত্রের ফিরে গেছেন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এর প্রতিবাদে নেতৃবৃন্দ আগামীকাল ১৭ই জুলাই খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করার কথা জানান।

মোঃ শাহাদত হোসেন কায়েশ, সাধারণ সম্পাদক, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখা কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

উল্লেখ্য যে, গত ০৬ জুলাই হতে টানা বর্ষণের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত ৬৯টি ভূমিধ্বস ও বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া ঘটনায় সর্বমোট ১৩ জন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে। এছাড়াও, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবাহিত নদীগুলিতে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড় ধ্বস আর বন্যার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভেংগে এবং ডুবে গেছে। বাড়িঘর ছেড়ে শতশত মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনীসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দূর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এমন সময় সাংসদ বাসন্তী চাকমা বন্যার্তদের জন্য ত্রাণের টাকা নিয়ে এসে তা বৌদ্ধবিহারে অনুদান করে চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন বলে সচেতন মহল মনে করেন।

এরকম অমানবিক ও সাম্প্রদায়িক একজন মহিলা সাংসদের অপসারণ দাবী করেছেন বন্যা ও পাহাড় ধ্বসে সর্বহারা পাহাড়ি-বাংগালী জনসাধারণ।   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ