Recents in Beach

সন্তু লারমা কে?




সন্তোষ বড়ুয়াঃ
 
সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) নামক একটি উগ্র চাকমা সাম্প্রদায়িক সংগঠনের প্রধান। এছাড়াও, শান্তিচূক্তির সুফল ভোগ করে তিনি বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাসম পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানও বটে।

তিনি শান্তিবাহিনী নামক একটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে নেতৃত্ব দেন, যা পিসিজেএসএসেরই একটি সশস্ত্র শাখা ছিল। সন্তু লারমার আপন বড় ভাই মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা তথা এমএন লারমা এই সশস্ত্র সংগঠনের সৃষ্টি করেছিলো। পরবর্তীতে, ক্ষমতালোভী সন্তু লারমা তার আপন ভাই এমএন লারমাকে হত্যা করে নিজেই পিসিজেএসএস’র প্রধান হিসেবে ক্ষমতা দখল করে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পিসিজেএসএসের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি 'শান্তি চুক্তি' অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি বাহিনীর বিলুপ্ত ঘটে। তবে, সন্তু লারমার পিসিজেএসএস অনানুষ্ঠানিকভাবে এখনো পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাস বজায় রেখেছে।

বিভিন্ন তথ্য প্রমাণাদিতে দেখা যায় যে, সন্তু লারমা বাংলাদেশের সীমান্তের বাইরে শান্তিবাহিনীর বেশ কয়েকটি ক্যাম্প পরিচালনা করেন, বেশিরভাগই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে তিনি 'শান্তি চুক্তি' স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও অদ্যাবধি তিনি তার বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শকে ত্যাগ করেননি।

শান্তিচূক্তির পর বিলুপ্ত (আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে তা করেনি সন্তু লারমা) শান্তিবাহিনীকে পূণরায় পিসিজেএসএসে রূপান্তরিত করেন সন্তু লারমা। চাকমা নেতৃত্বাধীন সন্তু লারমার পিসিজেএসএস ‘শান্তিচুক্তি’ মেনে না নেয়া অপর আরেকটি চাকমা সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ’র (প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে বলে জানায় সন্তু লারমা। পিসিজেএসএস এবং ইউপিডিএফ তাদের দলীয় আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ককে বৃদ্ধি করতে পার্বত্য অঞ্চলে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাদের এই সংঘাতের কারনে পার্বত্যাঞ্চলের শান্তিপ্রিয় সাধারণ পাহাড়ি-বাংগালীরা ভুক্তভোগী হচ্ছে। প্রতিনিয়ত খুন, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি করে পাহাড়ের সাধারণ মানুষগুলোর জীবন বিষিয়ে তুলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা দিয়ে শান্তিবাহিনীর বিলুপ্তির কথা বললেও এখনো ঐ চাকমা সংগঠনটি তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যা প্রচ্ছন্নভাবে শান্তিচূক্তির বরখেলাপ। একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে সাক্ষাত্কার প্রদানকালে সন্তু লারমা স্বীকারও করেছেন যে, তার দল এখনো সশস্ত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সন্তু লারমা- পার্বত্য চট্টগ্রামে গণহত্যা ও সশস্ত্র সন্ত্রাসের মূল নায়ক। সন্তু লারমা হলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩০ হাজার নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষের হত্যাকারী, যাদের অধিকাংশই ছিলো বাংগালী। সন্তু লারমার হত্যাযজ্ঞ থেকে বাদ যায়নি তার মায়ের পেটের আপন ভাইও। লংগদু গণহত্যা; কাউখালি গণহত্যা; বেতছড়ি গণহত্যা; বানরাইবারী, বেলতলী, বেলছড়ি গণহত্যা; তাইন্দং, আচালং, গৌরাঙ্গ পাড়া, দেওয়ান বাজার, তবলছড়ি, বর্ণাল, রামছিরা, গোমতি গণহত্যা; গোলকপতিমা ছড়া, মাইচ্যেছড়া, তারাবনছড়ি গণহত্যা; ভূষণছড়া গণহত্যা; পানছড়ি গণহত্যা; দিঘীনালা গণহত্যা; মাটিরাংগা গণহত্যা; কুমিল্লাটিলা, শুকনাছড়ি, দেওয়ান বাজার, সিংহপাড়া, তাইন্দং গণহত্যা; ভাইবোনছড়া গণহত্যা; হিরাচর, শ্রাবটতলী, খাগড়াছড়ি, পাবলাখালী গণহত্যা; নাইক্ষ্যংছড়ি গণহত্যা; মাল্যে গণহত্যা; লোগাং গণহত্যা; নানিয়ারচর গণহত্যা; পাকুয়াখালী ট্রাজেডিসহ অসংখ্য বর্বর হত্যাযজ্ঞের মূলহোতা ছিলো সন্তু লারমা। রক্ত পিপাসু সন্তু লারমার সেই রক্তের নেশা আজো কাটেনি। তাইতো, এখনো পার্বত্যাঞ্চলে রক্ত ঝরছে।
     
আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যানের শক্তিশালী পদে অধিষ্ঠিত হয়ে এখনও সন্তু লারমা অবৈধভাবে পদটি অব্যাহত রেখেছেন। নানান তালবাহানা করে তিনি আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন হতে দিচ্ছেন না। রক্তপিপাসু এই সন্তু লারমা সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিজের কুক্ষিগত করে রাখতে চায়। পাহাড় জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। কিন্তু তার সেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রধাণ বাঁধা হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীরা। আর তাই, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনী প্রত্যাহার নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যান যাতে করে তিনি সমগ্র পার্বত্যাঞ্চল জুড়ে তার সন্ত্রাসের রাজত্বকে বিস্তৃত করতে পারেন।

সন্তু লারমা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন মহলকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি সুবিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। তার এই কাজে সহযোগীতা করছেন প্রয়াত চাকমা সার্কেল চীফ রাজাকার ত্রিদিব রায়ের পুত্র ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাংগালীদের বিরুদ্ধেও জাতিগত ঘৃণা ছড়ানোর জন্য অপপ্রচারণা চালাচ্ছে এবং বাংগালীদের সবাইকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে উৎখাত ও নির্মূল করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের নামে নানান বিভ্রান্তিমূলক প্রচারনার পাশাপাশি তার নিজ ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারকে নিয়মিত চাপ দিচ্ছেন সন্তু লারমা।

সন্তু লারমার সশস্ত্র শাখার সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের সাধারণ মানুষ, দোকানদার, ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছ থেকে প্রতি বছর শতশত কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে। মূলতঃ সন্তু লারমা একজন গণহত্যাকারী, একজন পরিচিত সন্ত্রাসী, বর্ণবাদী, যার নিষ্ঠুরতা থেকে বাদ যায়না উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষগুলোও।

সন্তু লারমা পার্বত্যাঞ্চলের মানুষদের সত্যিকারের প্রতিনিধি নয়। একটি অত্যাবশ্যক প্রশ্ন হল- সন্তু লারমা কি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল মানুষের বৈধ প্রতিনিধি? তিনি কি একজন নির্বাচিত ব্যক্তি? তিনি কি কখনোই পার্বত্যাঞ্চলে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য কোন ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন? পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী বাংগালীরা কি সন্তু লারমাকে তাদের সত্যিকারের প্রতিনিধি হিসাবে সমর্থন করে? সকল প্রশ্নের একটিই উত্তর- “না”। অথচ তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে “শান্তিচূক্তি” স্বাক্ষর করেছিলেন। চরম বাস্তবতা হলো, শান্তিচুক্তির পর সন্তু লারমাকে প্রত্যাখ্যান করে তার দল থেকে বের হয়ে গিয়ে আরো তিনটি উপজাতি সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে। তার মানে এই দাড়ালো যে বর্তমানে সন্তু লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল মানুষের প্রতিনিধি নয়। আদতে এ থেকেই শান্তিচূক্তি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় নয় কি?

বর্ণবাদ ও সাম্প্রদায়িক এই সন্তু লারমা নিজে চাকমা হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাংগালী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি অন্যান্য উপজাতিদেরকেও নিয়মিতভাবে নির্যাতন করে যাচ্ছে। তার এই সাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজাতিরা অবহেলিত হচ্ছে আর দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। অথচ, চাকমারা দিন দিন ফুলে ফেঁপে তরতর করে উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে। কেন এই একচোখা নীতি?   

শান্তিবাহিনী একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। জন্মলঘ্ন থেকে শুরু করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে সন্তু লারমার শান্তিবাহিনী প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, হাজারো নারীকে ধর্ষণ করেছে, হাজারো গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে, হাজারো মানুষকে অপহরণ করেছে, হাজার হাজার নির্যাতন করেছে। তার নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি শিশু ও গর্ভবতী নারীরাও। সন্তু লারমার অত্যাচারে হাজার হাজার বাংগালী অভ্যন্তরীণভাবে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়ে গুচ্ছ গ্রামে আশ্রয় নেয়। সেইসব নৃশংস অপরাধ সম্পাদনের পরও শান্তিচূক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার শান্তিবাহিনীর সদস্যদের নিঃশর্ত ক্ষমা ঘোষণা করে। এত কিছুর পরও সন্তু লারমা এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারি সুবিধা ভোগ করেও চরমভাবে রাষ্ট্র অবমাননা করছেন সন্তু লারমা। আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার সুফল ভোগ করছেন। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকাবাহী দামী গাড়ি ব্যবহার করছেন তিনি। অথচ, কোন জাতীয় দিবসে তিনি শহীদ মিনারে যান না। যান না স্মৃতি সৌধেও। তিনি আজও বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেননি এবং নিজে ভোটার হননি। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তার এহেন মনোভাব রাষ্ট্রের প্রতি চরম অবমাননার শামিল নয় কি? এই সন্তু লারমা প্রতিনিয়ত পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা দেশ গঠনের হুমকিও দিয়ে থাকেন। এমন একজন দেশদ্রোহীকে কেন বিচারের আওতায় আনা হবে না? প্রশ্ন রইলো সবার প্রতি।।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ