Recents in Beach

পার্বত্যবাসীর মৌলিক ৮ দফা দাবী মেনে নেয়ার আহ্ববান



পার্বত্যবাসীর মৌলিক ৮ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্ববান জানিয়ে প্রচারণা চালিয়েছে
পার্বত্য বাঙালি মুক্তি সেনা নামের একটি ফেসবুক আইডি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে-

১। বাংলাদেশে আদিবাসী বিষয়ক সংগঠনগুলো ও তাদের তৎপরতা নিষিদ্ধ করো বাঙ্গালীদেরকেই বাংলাদেশের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

২। শিক্ষা ও চাকরিসহ সকল ক্ষেত্রে উপজাতি কোটা বাতিল করে সংবিধান মোতাবেক অনগ্রসর কোটা চালু করো। তিন পার্বত্য জেলাসমূহে বাঙালি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য জনসংখ্যা অনুপাতে আলাদা ছাত্র নিবাস নির্মাণ করতে হবে।

৩। ভূমি সমস্যা নিরসনে অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি জরিপ করো এবং ভূমি কমিশন আইন-২০১৬ এর বৈষম্যমূলক ধারা বাতিল কর। বাঙ্গালীদের ক্রয়কৃত ও সহকার কর্তৃক পুনর্বাসিত জমি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করো এবং গুচ্ছগ্রামের বাঙ্গালীদের নিজ জমিতে পুনর্বাসিত করো।

৪। পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করো।

৫। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে কোনভাবেই সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা যাবে না বরং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সেনা ক্যাম্প এবং অরক্ষিত সীমান্তে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন করো।

৬। উপজাতি আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিদ্বেষমূলক, সাম্প্রদায়িক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচারণা বন্ধ করতে কঠোর মনিটরিং চালু করো।

৭। ব্যবসা, ব্যাংক, লোন, ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাটসহ সকল ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উপজাতিদের ন্যায় বাঙ্গালীদের সুবিধা প্রদান করো।

৮। জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব নিয়োগ, চাকুরীসহ সকল ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত বাঙালি ও পাহাড়ী কোটার নিশ্চয়তা চাই।

উল্লেখ্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি বাঙালি নির্বিশেষে সকল অধিবাসীরই ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, সংস্কৃতি, মৌলিক চাহিদা ইত্যাদির স্বরুপ ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক তারতম্যের কারণে সকল সম্প্রদায় কম বেশি সমস্যায় নিপতিত আছে। তবে তুলনা করলে দেখা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতি ও বাঙ্গালীদের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাভোগী হিসেবে উপজাতি জনসাধারণই সকল সময়ে এগিয়ে আছে। নির্দিষ্ট করে বললে, উপজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যে চাকমারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী। সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সুবিধার সিংহভাগই চাকমারা ভোগ করে এবং তারা অন্যান্য উপজাতি এবং বাঙালিদেরকে পশ্চাৎপদতার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে রেখেছে।

এত বৈষম্য আর বঞ্চনার পরও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিরা অন্যান্য উপজাতিদের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান বজায় রেখে বসবাস করছে। বাঙ্গালীদের এ বঞ্চনা আর বৈষম্যের হাহাকার ও কান্না আমাদের দেশের তথাকথিত একচোখা ভাড়াটে সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, কলাম লেখক আর মিডিয়ার চোখে কখনোই পড়ে না। বরং তারা উপজাতিদের প্রতি পক্ষপাতদূষ্ট হয়ে সরকার, পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনী আর পাহাড়ের বাঙ্গালীদের বিপক্ষে নিয়মিতভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। পাহাড়ে চারটি উপজাতি আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন নিয়মিতভাবে খুন, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজসহ নানান অপকর্ম করে যাচ্ছে। এমনকি তারা বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে ‘স্বাধীন জুম্মল্যান্ড’ নামে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য দেশে-বিদেশে নানান ধরনের প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে। অপরদিকে পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় বাঙ্গালীদের নেই কোন সশস্ত্র সংগঠন। তারা উপজাতীয় সশস্ত্র সংগঠনের অস্ত্রের মুখে খুন, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজির শিকার হয়েও দাঁতে দাঁত চেপে পাহাড়ে পড়ে আছে শুধুমাত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ