Recents in Beach

পার্সিয়ান গালফে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা


আমেরিকা কি বার্তা অনুধাবন করতে পেরেছে?
.
ষাট হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়তে সক্ষম আমেরিকার ১৩০ মিলিয়ন ডলারের ড্রোন ভূপাতিত করার পর আইআরজিসি প্রধান জেনারেল সালামী বলেছিলেন " ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা আমেরিকার জন্য এক বার্তা"।
এই ঘটনার পর আমেরিকান দম্ভ চুর্ণ হলেও ইরানের সক্ষমতায় বৈশ্বিক আস্থা তৈরি হয়েছে।
ইরান তার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন যে কোন ভবেই মানতে প্রস্তুত নয় এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যথেষ্ট সক্ষম এক দেশ পৃথিবী তা বুঝে গেছে।
যেমনটা চাইনিজ এক উচ্চ পদস্থ প্রতিনিধি বলেছেন, ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার পর ইরানের সক্ষমতা বিষয়ে চীনের দৃষ্টি ভঙ্গি বদলে গেছে...
এশিয়া বিষয়ক রাশিয়ান বিশেষ দূত বলেছেন যুদ্ধ লাগলে ইরান একলা লড়বে না ...
তাই জানা দরকার ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনা আসলে ইরানের কি কি সক্ষমতা সামনে নিয়ে আসলো ?
.
সক্ষমতা
.
ড্রোন ধ্বংসের ঘটনা বহুমাত্রিক দিক দিয়ে ইরানের সক্ষমতা তুলে ধরেছে...
রাডার প্রযুক্তি, মিসাইল প্রযুক্তি, লাঞ্চার প্রযুক্তি, অপেরেশন দক্ষতা, স্ট্রাটেজিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা.. ঘটনার পর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অবস্থা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা...ইত্যাদি ইত্যাদি
.
যুদ্ধাবস্থার মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আমেরিকার মতো সুপার পাওয়ারের ১৩০ মিলিয়ন ডলারের ড্রোন ভূপাতিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া কোন সাধারণ সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু ইরান সেই সিদ্ধান্ত নিতে সম্পূর্ণরুপে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে।
ইরান প্রথমে কমপক্ষে তিনবার সেই ড্রোন কে সতর্কতা সংকেত দিয়েছে, আমেরিকান কমান্ড সেন্টার সেই সতর্কতা সংকেত উপেক্ষা করলে ইরান ড্রোন টি ভূপাতিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, একই সাথে ৩৫ জন আমেরিকান সহ একটি মনুষ্যবাহী সামরিক গোয়েন্দা বিমানকে ছাড় দিয়ে ইরান তার সৎ উদ্দেশ্যের প্রমান দিয়েছে কারন ইরান চাইলে সেই সামরিক গোয়েন্দা বিমানও ধ্বংস করার অধিকার রাখে।
.
ইরান উচ্চ প্রযুক্তির সেই ড্রোন ভূপাতিত করতে খোরদাদ-৩ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে.. ৬০,০০০ ফুট উচ্চতার লক্ষবস্তু ধ্বংস করতে ইরান রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা S-300 কিংবা তার চেয়েও উন্নত ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পূন্ন ইরানের নিজেস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি Bavar-373 ব্যবহার না করে আমেরিকাকে বলতে চেয়েছে খোরদাদ সামলাইতে পারলি না S-300 কিংবা Bavar-373 সামল দিবে কেমনে?
.
যার অর্থ ইরানের সকল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এক সাথে যে এয়ার ডিফেন্স শিল্ড তৈর করেছে শত্রুর জন্য তা ফাঁকি দেওয়া বা ভেদ করা প্রায় অসম্ভব হবে।
.
নিজেস্ব প্রযুক্তির এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহারের অর্থ রাডার সিস্টেম, মিসাইল ও লাঞ্চার, দক্ষ অপারেটর সব কিছুতেই তারা নিজের জ্ঞানগত ও পরিচালনার স্যামর্থের প্রমাণ দিয়েছে।
.
গ্লোবাল হক সার্ভাইলেন্স ড্রোন ১৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের হলেও এটি মূলত স্টিলথ প্রযুক্তির নয় তবে ২০১১ সালে ইরান RQ-170 sentinel স্ট্রাটেজিক স্পাই ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নামিয়ে এনেছিল, যার স্টিলথ প্রযুক্তি এতটাই বেশি পেনিট্রেশন ক্ষমতা সম্পন্ন যে শত্রুর আকাশ সীমায় এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিচরণ করলেও শত্রুর রাডার তাকে সনাক্ত করতে সক্ষম হবে না...
RQ-170 আমেরিকার অস্ত্র প্রযুক্তির সম্ভারে মূকটের মতো।
কেবল CIA তাদের হাইলি ক্লাসিফাইড অভিযান পরিচালনায় এটি ব্যবহার করে যেমন বিন লাদেন ধরার অপারেশন পরিচালনায় CIA RQ-170 ব্যবহার করেছিল যা রিয়েল টাইম হাইডেফিনেশন ভিডিও সরবরাহ করতে সক্ষম, ক্ষুদ্র আকৃতির পদার্থ ও সামান্যতম রেডিয়েশন সনাক্ত করতেও সক্ষম যা CIA ইরানের পরমাণু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছিলো।
হাতেগোনা কয়েকজন সাংবাদিকই কেবল RQ-170 দেখার ও ছবি তোলার সুযোগ পেয়েছিলেন.. এর চেয়ে উন্নত স্টিলিথ প্রযুক্তি B-52,B-2 বোমারু বিমান এমনকি F-35 ফাইটার প্লেনেও আছে কিনা সন্দেহ রয়েছে কারন RQ-170 কেবল CIA এর জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি আর CIA এমন যন্ত্রই ব্যবহার করে যার সাহায্যে সর্বাধিক গোপনে কাজ করা সম্ভব।
তাই RQ-170 এর স্টিলথ প্রযুক্তি B-52,B-2 বা F-35 এর চেয়েও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী তা ধারণা করা যায়।
.
পেনিট্রেটিং ক্ষমতা সম্পন্ন স্টিলথ প্রযুক্তির RQ-170 সনাক্ত করে ইরান ২০১১ সালেই প্রমাণ দিয়েছে তাঁর রাডার সিস্টেম যে কোন স্টিলথ বিমান সনাক্ত করতে সক্ষম।
RQ-170 এর নিয়ন্ত্রণ ও পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটার ভাইরাস stuxnet মোকাবিলা করে ও দখলে এনে ইরান কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ওয়ারফায়রে তার দক্ষতার ও সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
তাছাড়া নিজেস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থা তৈরি করে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার ইন্টারনেট ওয়ারফায়ারের কার্যকারিতা প্রায় শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে।
.
ইরান মিসাইল দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করায় তাদের মিসাইল প্রযুক্তির পিন পয়েন্ট সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
এর আগে ইরান তার ব্যালিটিক মিসাইল প্রযুক্তির পিনপয়েন্ট সক্ষমতার প্রমান দিয়েছে ইরান থেকে সিরিয়ায় এইএসের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে পিনপয়েন্ট হামলা চালিয়ে।
.
জেনারেল কাসেম সোলাইমানীর নেতৃত্বে ইরাক ও সিরিয়ায় আমেরিকা ও ইসরাইলি অক্ষের বিরুদ্ধে ইরানের বিজয় ইরনি সামরিক বাহিনীর মানষিক, শারিরীক, যান্ত্রিক ও কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে।
নৌ, আকাশ, স্থলে ইরানের আক্রমণ সক্ষমতা কিংবা ইরাক,লেবানন,সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন,কুয়েত কিংবা বাহরাইনে ইরানের বন্ধুদের কথা বাদ দিলেও সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট একক ইরানের আত্মরক্ষার সক্ষমতারও মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন দেখবে না।
.
বাক্সবন্দী ট্রাম্প
.
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ব্যবহার করে অনেকেই অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশা দেখছে।
গত সপ্তাহে তারা তাদের আশা পূরনে প্রায় সফল হয়েছিলো।
ট্রাম্প তার হাতে থাকা সকল অপশন ব্যবহার করে নিজেকে বর্তমানে বাক্সবন্দী করে ফেলেছেন।
এমন অবস্থায় মুক্তির জন্য ট্রাম্পের হাতে কেবল ২টি অপশন রয়েছে ১) যুদ্ধ ২) শান্তি। বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি সুদূর পরাহত এবং যুদ্ধের পাল্লাই ভারী বলে মনে হচ্ছে..
.
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মানে হচ্ছে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে আমেরিকার ইরান আক্রমণের সম্ভাবনা খুবই বেশি।
.
ড্রোন ধ্বংসের মাধ্যমে ইরান আমেরিকাকে কঠোর প্রতিরোধের বার্তা দিলেও বর্তমানে আমেরিকায় সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষের খুবই অভাব।
তাই প্রশ্ন হচ্ছে আমেরিকা কি ইরানের দেওয়া বার্তা অনুধাবন করতে পেরেছে?

(বির্বন মানব)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ