Recents in Beach

তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরীহ মানুষদের রক্তচোষা সমাজপতি?



সন্তোষ বড়ুয়াঃ

পার্বত্য চট্রগ্রামের উপজাতি অধিবাসীদের কাছে
রাজা বাবুমনের একটি বিশেষ স্থানে আসীন। তবে নিজেকে জোর করে রাজা বললেও আইন অনুযায়ী তাদের প্রকৃত পদের নামসার্কেল চিফ। বৃটিশ শাসনামলে চিটাগাং হিল ট্রাক্টস রেগুলেশন-১৯০০ আইন বা চিটাগাং হিল ট্রাক্টস ম্যানুয়েল এর ক্ষমতাবলে এই পদের সৃষ্টি হয়। দূর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য এবং চাকমা বিদ্রোহ দমনের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি সার্কেল বা অঞ্চলে বিভক্ত করেছিলো বৃটিশরা

তিন সার্কেলের মধ্যে- চাকমা সার্কেল চিফের অধীনে রাঙামাটি, বোমাং সার্কেল বান্দরবানে আর মং সার্কেলের অধীনে খাগড়াছড়ি জেলাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। সেই থেকে চালু হয় সার্কেল প্রথা। এরপর থেকে ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান আমল ও বাংলাদেশ আমলে তারা সার্কেল চিফ নামেই অভিহিত হয়ে আসছে। তবে নিজ সার্কেলে বসবাসকারী জনগণের কাছে তারা নিজেদেরকে রাজা বলেই পরিচয় দেয়। যা Chittagong Hill Tracts Regulation 1/1900 এর ৩৫ নং আইন এবং অন্যান্য বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিধি সম্মত নয়।

এইসব স্বঘোষিত রাজা এবং তাদের পূর্ব পুরুষগণ সাধারণ প্রজাদের জন্য সব সময় অনুকরণীয় ও আদর্শ চরিত্র। তবে আমার আজকের লেখার বিষয় সার্কেল চীফবারাজাশব্দের বিচার-বিশ্লেষণ করা নয়। বরং সাধারণ জনগণের প্রতি এদের দায়বদ্ধতা কতটুকু সেটাই আজ আলোচনা করবো।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, পার্বত্য জেলাগুলোতে নিয়মিতভাবে খুন, গুম, ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে চলেছে বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি এই সব হত্যাকান্ডসহ সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিচার চাই। ভিকটিম পাহাড়ি হোক কিংবা বাংগালী সকল ক্ষেত্রেই অপরাধীর বিচার কাম্য। কিন্তু এই যে তিন স্বঘোষিত রাজা বাবুরা বসে আছেন তারা কেন একবারের জন্যও তাদের ই সব ভুক্তভোগী প্রজাদের হত্যাকান্ডের বিচার করছেন না বা বিচার চাইছেন না?

রাংগামটির চাকমা সার্কেল চীফকে বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিতে শুনি (বেশিরভাগই বাংগালী বিদ্বেষী, সাম্প্রদায়িক উস্কানীমূলক, দেশদ্রোহী কথাবার্তা)। সেই তিনিও তাঁর বক্তব্যে ভুলেও উনার প্রজাদের মংগলের জন্য, ভুক্তভোগী প্রজাদের হত্যাকান্ডের বিচার চান না। নিজে তো বিচার করেনই না।  

চাকমা রাজা মহাশয় তো আবার প্রথাগত আইনের আওতায় সব কিছু বিচার করার কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন এমনকি তিনি প্রথাগত আইন সংক্রান্ত একটি গীতাঞ্জলী টাইপবইও রচনা করেছেন। রাজা বাবুর সেই বইয়ে কি প্রজাদের খুন হবার পরে বিচার সংক্রান্ত কোন আইন নেই? মা-বোনদের ধর্ষকদের শাস্তির বিধান নেই?  তার সব আইন পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি দখল, বাংগালী উচ্ছেদ আর প্রজাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্টে অর্জিত অর্থকে খাজনা হিসেবে আদায় করার জন্য?

আসলে রাজা বাবুরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি আর ভোগবিলাসী জীবন যাপনের জন্য নিজের সুবিধামত আইন প্রচলন করে পায়ের উপর পা তুলে বসে বসে প্রজাদের রক্ত চুষে খাচ্ছে (আরও পড়তে ক্লিক করুন http://goo.gl/93RNPm)নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য প্রজাদেরকে অশিক্ষার অন্ধকারে ফেলে রাখছে। চাকমা রাজপরিবার কর্তৃক সাধারণ পাহাড়িদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের পথে অন্তরায় সৃষ্টির অনেক নির্মম ইতিহাস পাওয়া যাবে অঙ্কুর প্রকাশনী থেকে ২০০২ সালে প্রকাশিত শরদিন্দু শেখর চাকমার আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আমার জীবন (প্রথম খন্ড)এর বিভিন্ন স্থানে। (আরও পড়তে ক্লিক করুন http://goo.gl/QQo7M9)
রাজা বাবুজনগণ দ্বারা নির্বাচিত কোন জনপ্রতিনিধি নয়। বংশ পরম্পরায় খাজনা আদায়ের নামে সাধারণ জনগণের রক্ত চুষে খাওয়া এই রাজা বাবুর পরিবারের কাজ। জনগণ দ্বারা নির্বাচিত কোন জনপ্রতিনিধি ছাড়া স্বার্থপর এই সব রাজা বাবু নিজ স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে মগের মুল্লুক চালাবে এটাই স্বাভাবিক। এভাবে আর চলতে পারে না। একজন গরীব কৃষক হাড় পানি করে ফসল ফলাবে আর সেই ফসলের ৪২ পয়সা যাবে এইসব রাজাবাবুদের ঘরে। সেই অর্থ দিয়ে স্বঘোষিত রাণীরা হাতে উল্কি আঁকবেন সেটা মেনে যায় না। রাণীর হাতের ঐ উল্কির মধ্যে লুকিয়ে আছে পাহাড়ী ভাইয়ের শুকিয়ে কালচে হওয়া রক্ত। বিংশ শতাব্দীর এই যুগে পুরাতন প্রথা বিলুপ্ত করার বিকল্প নেই।

জানিনা আমার এই লেখা রাজা বাবুর কাছে পৌঁছাবে কিনা। যদি পৌঁছায় সেই ধারণা থেকে বলছি-শুধু খাজনা আদায়ের লক্ষ্যে রাজা বাবুহয়ে বসে থাকবেন না। আপনার সার্কেলের মধ্যে খুন হওয়া এইসব জনগণের (পাহাড়ি বাংগালী উভয়) পরিবারের পাশে দাঁড়ান। হত্যাকারীদের বিচার করুন (যদি আপনার প্রথাগত আইনে এ সংক্রান্ত কোন আইন না থাকে তবে আইন পয়দা করুন)। শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার উপকরণ হয়ে রাজা বাবুহয়ে খাজনা আদায় বন্ধ করুন। তা না হলে মনে রাখবেন জনগণকে উপেক্ষা করে কোনো ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায় না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ