Recents in Beach

বান্দরবানে আওয়ামীলীগ সমর্থককে অপহরণের পর খুনঃ অভিযোগের তীর জেএসএস'র দিকে


                                                                    প্রতিকী ছবি
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ


বান্দরবান জেলা সদরের রাজবিলা ইউনিয়নের ৮নং রাবার বাগান এলাকা সংলগ্ন নিজ বাসা থেকে চিং থোয়াই মারমা (২৭) নামে একজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ১৯ তারিখ রাত ২টা ৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। অপহরণের পর চিং থোয়াই মারমাকে তাঁর বাড়ির পার্শ্ববর্তী জংগলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে খুন করে সন্ত্রাসীরা। নিহত চিং থোয়াই মারমা’র ছোট ভাই স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি।  

ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন সন্তু লারমার সমর্থিত জেএসএস এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে কি কারনে এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে তার সঠিক কারন তারা জানাতে পারেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বর্তমানে লাশ মর্গে রয়েছে।  

বান্দরবানের রাজবিলা ইউনিয়নে এর আগেও সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস কর্তৃক একাধিক খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের দিন রাজবিলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মারমার পিতা অংক্যা চিং মারমাকে গুলি করে গুরুতর জখম করে। এছাড়াও, গত ১৩ জুন ২০১৬ তারিখে একই এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা মং প্রু মারমা’কে অপহরণ করে নিয়ে যায় জেএসএস সন্তু গ্রুপ। অপহৃত মং প্রু মারমা অদ্যাবধি নিখোঁজ রয়েছেন।  

এছাড়াও, ২০১৬ সালে বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার তালুকদার পাড়া গ্রামের উপজাতি সম্প্রদায়ের জনসাধারণ ঐ সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সন্তু লারমার সমর্থিত জেএসএসকে ভোট না দিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে ভোট দেয়ায় পুরা এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করে জেএসএস সন্তু গ্রুপ। তাদের ক্রমাগত অত্যাচারে পুরো তালুকদার পাড়ার ৭০ টি উপজাতি পরিবার প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে বান্দরবান শহরে হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।    

রাজবিলা ইউনিয়নে জেএসএস সন্তু গ্রুপের প্রতিনিয়ত এরুপ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজাতি সম্প্রদায়ের একজন যুবক বলেন- সন্তু লারমা পুরো পাহাড় জুড়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলেই আমাদের খুন হতে হয়। তাই ভয়ে আমরা মুখ খুলি না। এইসব সন্ত্রাসীদেরকে চাঁদা দিতে দিতে আমরা অতিষ্ট।       

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ