Recents in Beach

গুজব !! প্রসংগ পার্বত্য চট্টগ্রাম



মাহের ইসলামঃ

মিথ্যে আর গুজবের পিছনে কেউ ছুটতে চায় না।
তাই, প্রকৃত সত্য জানার ইচ্ছে থেকেই অনেকে জিজ্ঞেস করেছে,
ছবি কই?
প্রমান কই?

পার্বত্য চট্রগ্রামের কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়, প্রতিবাদ করা যায়, মিথ্যে দাবীও করা যায়, ব্যাঙ্গ নাটিকা মঞ্চস্থ করাও যায়। এই কারণেই, রোমেল কে নিয়ে কিছু লোক তো কথা বলেছে এবং এখনো বলছে? তার সংবাদ ব্ল্যাক আউট করা হয়নি। ঢাকায় ব্যঙ্গাত্নক নাটকে কেউ বাঁধা দেয়নি। কল্পনা চাকমার মত এক নিখোঁজের ঘটনাকে সেনাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। বিলাইছড়ির ঘটনা নিয়ে যখন মানবাধিকার কমিশন, তদন্ত করেই জানালো রেপ হয়নি, তখনো অনেকে বিশ্বাস করেনি। কারণ, কিছু লোক বিশ্বাস শুধু এক পক্ষকেই করতে চায়। আরেক জনের যুক্তিতে নিজের বিশ্বাস ভাঙবে, এমন লোকের সংখ্যা কম। আর, আমরা সবসময় আমাদের সমমনা ও ট্রাস্টেড সোর্স এর সংবাদ বিশ্বাস করি। অন্যদেরটা না। তাই, আমার সকল সংবাদের সোর্স মোটামুটি একই ধরণের আমাকে পৌঁছে দেয়, বিশেষতঃ সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এই হল, পার্বত্য চট্রগ্রামের বাস্তবতা। এখানে, সব কিছুর জন্যে দায়ী করা হয় বাঙালী আর সেনাদের। অথচ, কেউ ভেবে দেখে না, সেনারা পাহাড়ে গিয়েছিল, কোন দুঃখে? ক্যান্টনমেন্টের সাজানো জায়গা ছেড়ে নাগরিক সুবিধাবিহিন দুর্গম পাহাড়ে এক তরুন কেন থাকতে চাইবে? কিসের টানে?
বাঙ্গালীরা মশার কামড়ে ম্যালেরিয়ায় মরার জন্যে এখানে কেন এসেছিল?
সেনা আর বাঙালীদের পাহাড়ে যাওয়ার পিছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশী, তারা এখন কেমন আছেন? কি করছেন?

নিজেদের দোষ কারো চোখে পড়ে না!! দৃষ্টি যখন আরেকজনের উপরে নিবদ্ধ, তখন কি আর করা।
তাই, গতানুগতিক ভাবেই, ২৯ মে ২০১৮ তারিখে মহালছড়িতে ক্লাস টেনের যে তিন জন মারমা ছাত্রী ধর্ষিতা হল, সেটাতো রীতিমত ব্ল্যাক আউট করা হল। এমনকি, মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল বিন্দুমাত্র উচ্চবাচ্য করলো না।
২ আগস্ট কাউখালিতে ক্লাস এইটের এক চাকমা ছাত্রীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটলো। শুনলাম, প্রথাগত বিচার করা হয়েছে। একবিংশ শতাব্দিতে এসে নারীদের সেই প্রাচীন যুগের প্রথাগত বিচারে চলতে হবে। কিন্তু, তথাকথিত নারীবাদীরা এগুলো নিয়ে কখনই কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করেন নি।

নিয়মিত অপহরণ আর নিখোঁজের তালিকায় এপ্রিলে (২০১৮ সাল) তিনজন বাঙালী ব্যবসায়ীর নাম যোগ হল অথচ দেশের লোকজন জানেই না!!

প্রতিনিয়ত কত মেয়েকে হুমকি দেয়া হচ্ছে, লাভ জিহাদের নামে দেশবাসী হয়ত বিশ্বাস করতে পারবে না।

কতজনকে শাস্তি হিসেবে রেপ করা হয়েছে? প্রতিবাদ কেউ করার সাহস করেছে? করেনি। এই কথাটাও কাউকে বলে বোঝানো যাবে না।

প্রতিদিন কি পরিমাণ চাঁদা কিভাবে আদায় করা হচ্ছে, এটা অকল্পনীয়।
শান্তি চুক্তি হওয়ায় এখন এক দলের বদলে চার দল জুটেছে, চাঁদা নিতে। হয়ত অনেকেই এটা স্বীকারও করতে চাইবে না।

এরকম, অনেক অনেক ঘটনা আছে। বাঙ্গালীর এক অপরাধ শতমুখে প্রচার করা হয়, পাহাড়ে, পাহাড়ের বাইরে, এমনকি দেশের বাইরেও। আর, সেই মানুষটাই আবার উপজাতির শত দোষ ঢাকতে সদা তৎপর। আর না হলে, দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় অন্যদিকে। তাই, উপজাতীয়রা যখন কোন অপরাধ করে তখন ছবি বা প্রমান চাওয়া দূরের কথা, অনেক সময় খবরও কারো কাছে পৌঁছাতে দেয়া হয় না।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ কেউ করেছে কখনো, শাহবাগে?
অস্ত্রধারী সবগুলো সংগঠন হল উপজাতিদের। এদের বিরুদ্ধে কতজন উপজাতি কথা বলেছে, আর কোথায়?
একটা অস্ত্রধারী সংগঠন বাঙালী হলে, কি হতো, কল্পনা করার সাহস কারো আছে বলে মনে হয় না!! তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মনে দেশের বাইরে তো হতোই, পারলে দুনিয়ার বাইরে কোথাও করার চিন্তা মাথায় আসত কারো কারো।
পাহাড়ে বাঙ্গালীরা নিজের দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মত থাকতে বাধ্য হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই; ভেবে দেখুনতো পাহাড়িদের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটলে, কেমন হত? প্রতিবাদ দুনিয়ার কোথায় হত না?

আমি জানি, উপরের লেখার মত করে, আরো লেখা লিখতে পারবে অনেকেই। যেখানে বক্তব্য থাকবে পুরো বিপরীত, এবং অবশ্যই একপেশে। বাস্তবে, এরকমই হয়ে এসেছে, সব সময়। তাই সাধারণ মানুষের দুর্দশা কমেনি। অনাচার, অত্যাচার আর ক্ষোভ কমার কোন লক্ষণ চোখে পড়ে না। কে জানে, হয়ত অনেক ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়েই বাড়ছে।

তাই আমাদের এই মানসিকতা দূর না করলে সমাধান আসবে না। নিজের রঙ্গিন চশমাটা পাল্টাতে হবে। একচোখা নীতি নিয়ে দোষারোপ করার চর্চা বন্ধ করতে হবে।

আরেকজনের অধিকারকে সম্মান করতে শিখতে হবে। মেনে নিতে হবে যে, সমাজের এবং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকরই কিছু না কিছু অধিকার আছে। ঠিক যেমনটা, আমি নিজের জন্য দাবী করি বা আশা করি।

একই দোষে দোষী হলেও, কিছু লোকের অন্যায়ের ঢোল বাজাবো, আর কিছু লোকের অন্যায়কে আড়াল করার চেষ্টা করবো এরকম মানসিকতা সমাজে অপরাধ বৃদ্ধি করবে এবং অপরাধীকে উৎসাহিত করবে। অন্যায়কারী যে জাত বা ধর্মের হোক, শাস্তি দাবী করতে হবে।

গ্লাসকে হাফ খালি বলবেন, নাকি হাফ ভরা বলবেন সেটা আপনার মর্জি। তবে, আপনার এই মর্জির উপর হয়ত আরেকজনের সুখ আর শান্তি নির্ভর করছে।

যেহেতু একই সমাজে বাস করি, তাই আরেকজনের সুখ শান্তির প্রভাবে আমি বা আপনি প্রভাবান্বিত হতে বাধ্য। যুগে যুগে তাই হয়ে এসেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ